Event Date: 21 Jul 2024
ওঁ শ্রীগুরুবে নমঃ গুরু-স্তুতি
'ব্রহ্মানন্দং পরমসুখদং কেবলং জ্ঞানমূর্তিং। দ্বন্দ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদিলক্ষ্যম্ ॥ একং নিত্যং বিমলমচলং সর্বধীসাক্ষীভূতং। ভাবাতীতং ত্রিগুণরহিতং সদ্গুরুং তং নমামি।'
(৪৯-শ্রীশ্রী গুরুগীতা।)
-যিনি ব্রহ্মানন্দস্বরূপ, পরম সুখদ, নির্লিপ্ত, জ্ঞানমূর্তি, দ্বন্দ্বাতীত, গগন-সদৃশ, যিনি 'তত্ত্বমসি' প্রভৃতি বাক্যের লক্ষ্য এবং নিত্য, বিমল, অচল, সকল বুদ্ধির সাক্ষী, ভাবাতীত এবং ত্রিগুণরহিত
-সেই সদ্গুরুকে আমি নমস্কার করি।
ধন্য, ধন্য হে গুরু, তুমি নিজের মধ্যে আমাকে মিলিয়ে নিয়েছ। আমার নালার জল তোমার জীবন-গঙ্গায় মিশে পরমেশ্বররূপ মহাপ্রেম- সমুদ্রে তরঙ্গে তরঙ্গে হিল্লোল তুলছে।
ধন্য হে গুরু, তুমি চঞ্চল মনকে শান্ত করে দিয়েছ। দিয়েছ অনাবিল গম্ভীর স্থিরতা। তত্ত্বের ভিতর দিয়ে তত্ত্বাতীত করেছ। বন্ধন হতে নির্বন্ধ করেছ-যা অগম্য, তাকে গম্য করেছ।
হে গুরুদেব! তুমি অন্তঃকরণকে ডোবা হতে সাগরে পরিণত করেছ। তাতে কর্মের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। আর চিদাকাশে দিব্য জ্ঞানসূর্য উঠেছে এবং ত্যাগ ও বৈরাগ্যের দিব্য মেঘ উৎপন্ন হয়েছে। আর তাতে অনুরাগ-পুলক-দামিনী চমকাচ্ছে। ঘন ঘন 'শিব, শিব', 'হর হর মহাদেব' ধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে। ভক্তিরূপ পদ্মফুলটা পাপড়ি মেলে দিয়েছে। প্রেমের প্রচণ্ড বর্ষণ শুরু হয়েছে। অণু-অণু রোম- রোম রসসিক্ত হচ্ছে।
পৃথিবীর শরীর সামাল-সামাল! গেল! গেল! বুঝি মহাপ্রলয় উপস্থিত !
সহজ-সমাধি উপস্থিত হয়েছে।
এখন:
হাঁটা-চলায় পরিক্রমা হয়ে গেছে।
কাজ-কর্ম সেবা হয়ে গেছে।
শয়ন প্রণাম বা দণ্ডবৎ-এ পরিণত হয়েছে।
রায়না তপোবন আশ্রমে গুরু পূর্ণিমার কিছু মুহূর্ত।